ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে বিক্ষোভের সময় প্যারিসে বাংলাদেশিদের কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে। আর্থিক ক্ষতি ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রবাসীরা।
ফ্রান্সে বাংলাদেশিদের দোকানে লুটপাট, বড় ক্ষতির মুখে ব্যবসায়ীরা
ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে প্যারিসে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা। নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় দোকানপাটের নিরাপত্তা ও জীবিকা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে প্রবাসীদের মধ্যে।
প্রথম আলোর ২৪ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৭ ও ১৮ অক্টোবর প্যারিসে বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতার সময় বিভিন্ন দোকানে হামলা ও লুটপাট হয়। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাংলাদেশিদের পরিচালিত ব্যবসাও রয়েছে।
এক ব্যবসায়ীর দাবি, লুট হয়েছে ৯০ হাজার ইউরোর পণ্য
প্যারিসে হাসান নামের এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর মোবাইল ফোনের সরঞ্জাম ও ইলেকট্রনিক পণ্যের দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দোকানে প্রায় ৯০ হাজার ইউরো মূল্যের পণ্য ছিল, যার পুরোটাই লুট হয়ে গেছে।
এটি ওই ব্যবসায়ীর দেওয়া ক্ষয়ক্ষতির হিসাব; তাঁর দাবির ভিত্তিতে দোকানের ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মোট সংখ্যা বা সম্মিলিত আর্থিক ক্ষতির কোনো পূর্ণাঙ্গ সরকারি হিসাব প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
প্যারিসে শত শত দোকানে ভাঙচুর
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে প্যারিস নগর কর্তৃপক্ষের তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ১৭ ও ১৮ অক্টোবরের সহিংসতায় ২১ অক্টোবর পর্যন্ত শহরটিতে ৪৫১টি দোকানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ফরাসি সরকারের হিসাব অনুযায়ী, দেশজুড়ে কয়েক হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিক্ষোভের পেছনে জীবনযাত্রার ব্যয় ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে অসন্তোষ কাজ করছে। তবে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড এবং দোকান ভাঙচুর বা লুটপাটের মতো অপরাধকে আলাদাভাবে বিবেচনা করা জরুরি।
ব্যবসায়ী ও সাধারণ প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ
প্যারিসে মানি ট্রান্সফার ও মানি এক্সচেঞ্জ সেবার ছোট আউটলেট পরিচালনাকারী বাংলাদেশি উদ্যোক্তারাও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। নতুন করে সহিংসতা শুরু হলে এসব প্রতিষ্ঠান হামলা বা লুটপাটের শিকার হতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা।
সহিংসতার প্রভাব শুধু দোকানের মালামাল হারানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ব্যবসা বন্ধ থাকলে আয় কমে যায়, কর্মীদের কাজ ব্যাহত হয় এবং নতুন করে ব্যবসা চালু করতে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে এসব প্রভাবের সামগ্রিক পরিমাণ নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি।
খাবার সরবরাহের কাজে যুক্ত প্রবাসী কর্মীরাও চলাচলে বাধা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। ফলে অস্থিরতার প্রভাব ব্যবসায়ী ছাড়াও দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল কর্মীদের জীবিকায় পড়ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তার উদ্যোগ
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্সের কয়েকটি ব্যবসায়ী সংগঠন ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য সংগ্রহ, বিমা-সংক্রান্ত কাগজপত্র প্রস্তুত এবং ক্ষতিপূরণের আবেদন করতে সহায়তা দিচ্ছে। ফরাসি সরকারের ঘোষিত ব্যবস্থার মধ্যে নির্দিষ্ট শর্তে আর্থিক সহায়তা, কর ও সামাজিক অবদানের অর্থ পরিশোধে সময় বাড়ানো এবং যোগ্য ব্যবসার জন্য ঋণসুবিধার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
তবে সব ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসব সুবিধা পাবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। সহায়তা পাওয়ার যোগ্যতা ও আবেদনপ্রক্রিয়া জানতে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, ব্যবসায়ী সংগঠন এবং বিমা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা প্রয়োজন।
প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য এ ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির নথি সংরক্ষণ, পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো এবং বিমা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বাংলাদেশি কমিউনিটি সংগঠনগুলোর সমন্বিত সহায়তাও প্রবাসীদের জন্য কার্যকর হতে পারে।
সূত্র: প্রথম আলো। ঘটনার আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটের জন্য ইউরোনিউজের প্রতিবেদনও দেখা যেতে পারে।
You must be logged in to post a comment.