অর্থনীতি

ডলারের নির্ভরতা কমাতে স্বর্ণের মজুত বাড়াচ্ছে চীন

ডলারের নির্ভরতা কমাতে স্বর্ণের মজুত বাড়াচ্ছে চীন
ডলারের নির্ভরতা কমাতে স্বর্ণের মজুত বাড়াচ্ছে চীন
এই সংবাদটি শুনুন বাংলা
1 মি.

ডলারের ওপর নির্ভরতা ও বৈশ্বিক আর্থিক ঝুঁকি কমাতে স্বর্ণের মজুত বাড়াচ্ছে চীন। সেপ্টেম্বরে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২৩ টন স্বর্ণ কিনেছে।

Table of Contents

    মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং বৈশ্বিক আর্থিক ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় স্বর্ণের মজুত বাড়াচ্ছে চীন। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে স্বর্ণ কেনায় বৈদেশিক রিজার্ভে এই মূল্যবান ধাতুর অংশও বাড়ছে।

    চীনের স্বর্ণ কেনার এই প্রবণতা নিয়ে ১৬ অক্টোবর আল জাজিরায় প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক রিজার্ভের ঝুঁকি কমানো এবং সম্পদের বৈচিত্র্য বাড়ানো এই কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ দিক। গ্রামার কাগজ নিউজও তাদের ১৮ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরেছে।

    সেপ্টেম্বরে ২৩ টন স্বর্ণ কিনেছে চীন

    ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক পিপলস ব্যাংক অব চায়না (পিবিওসি) ২৩ টন স্বর্ণের মজুত বাড়িয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর এক মাসে এটিই দেশটির সর্বোচ্চ স্বর্ণ কেনার পরিমাণ।

    - Advertisement -

    এই কেনাকাটার ফলে সেপ্টেম্বরের শেষে চীনের ঘোষিত সরকারি স্বর্ণের মজুত বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২ হাজার ৪১০ টনে। দেশটির মোট সরকারি রিজার্ভের প্রায় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল স্বর্ণ।

    ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের হিসাব বলছে, ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোট ৬৩ টন স্বর্ণ কিনেছে। বছরের প্রথম নয় মাসে কেনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০৩ টনে। সেপ্টেম্বরে স্বর্ণ কেনার মধ্য দিয়ে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ধারাবাহিক মজুত বৃদ্ধির সময়কাল ২৩ মাসে পৌঁছেছে।

    কেন ডলারের বদলে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছে চীন?

    চীনের স্বর্ণ কেনার অন্যতম সম্ভাব্য উদ্দেশ্য হলো বৈদেশিক রিজার্ভে মার্কিন ডলারভিত্তিক সম্পদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বিদেশে রাখা সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন দেশের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

    ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিদেশে থাকা বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দ করে। এ ঘটনা অন্য দেশগুলোর কাছেও একটি বার্তা দেয়—বিদেশে রাখা রিজার্ভের ব্যবহার রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

    স্বর্ণের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, এটি কোনো বিদেশি সরকার বা প্রতিষ্ঠানের ঋণপত্র নয়। নিজ দেশে সংরক্ষিত স্বর্ণের ওপর অন্য দেশের আর্থিক ব্যবস্থার সরাসরি নিয়ন্ত্রণও তুলনামূলকভাবে কম। এ কারণে কিছু কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক রিজার্ভে স্বর্ণের অংশ বাড়িয়ে ঝুঁকি ছড়িয়ে দিতে চাইছে।

    তবে চীনের স্বর্ণ কেনাকে ডলারভিত্তিক সম্পদ থেকে পুরোপুরি সরে যাওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বরং এটি রিজার্ভের বিভিন্ন সম্পদের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি এবং দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

    স্বর্ণের চাহিদায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পাশাপাশি সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও

    চীনে শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংক নয়, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ রয়েছে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, শেয়ারবাজারের ওঠানামা এবং আবাসন খাতের দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতার মধ্যে অনেকে বিকল্প বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণকে বেছে নিচ্ছেন।

    চায়না গোল্ড অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য উদ্ধৃত করে গ্রামার কাগজ নিউজ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে চীনে স্বর্ণের বার ও মুদ্রা কেনার পরিমাণ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। তবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কেনাকাটা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা আলাদা বিষয়।

    স্বর্ণের দামও এই বাজারের গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক। সুদের হার, মার্কিন ডলারের শক্তি এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনে স্বর্ণের দাম ওঠানামা করতে পারে। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর দীর্ঘমেয়াদি স্বর্ণ কেনার প্রবণতা থাকলেও এর অর্থ এই নয় যে স্বর্ণের দাম সব সময় বাড়বে।

    বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব কী হতে পারে?

    চীনের মতো বড় অর্থনীতির দেশ রিজার্ভে স্বর্ণের অংশ বাড়ালে আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর চাহিদা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ বৈদেশিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ডলার, স্বর্ণ ও অন্যান্য সম্পদের মধ্যে নতুন করে ভারসাম্য নির্ধারণ করতে পারে।

    তবে মার্কিন ডলারের আন্তর্জাতিক ভূমিকা শুধু রিজার্ভে তার অংশের ওপর নির্ভর করে না। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন, আর্থিক বাজারের গভীরতা এবং ডলারভিত্তিক সম্পদের তারল্যও এর প্রভাব ধরে রাখে। ফলে চীনের স্বর্ণের মজুত বাড়লেই বিশ্ব অর্থনীতি থেকে ডলারের আধিপত্য দ্রুত শেষ হয়ে যাবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর যথেষ্ট ভিত্তি নেই।

    সব মিলিয়ে, চীনের স্বর্ণ কেনার ধারাবাহিকতা বৈশ্বিক রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকি কমানো ও সম্পদ বৈচিত্র্যকরণের গুরুত্ব তুলে ধরছে। ভবিষ্যতে এই প্রবণতা কতটা অব্যাহত থাকে, তা নির্ভর করবে চীনের নীতিগত সিদ্ধান্ত, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং স্বর্ণের বাজারদরের ওপর।

    সূত্র: গ্রামার কাগজ নিউজ, ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল এবং আল জাজিরা।

    চীন কেন স্বর্ণের মজুত বাড়াচ্ছে?

    বৈদেশিক রিজার্ভে সম্পদের বৈচিত্র্য বাড়ানো, ডলারভিত্তিক সম্পদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো এবং আর্থিক ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলা করার কৌশলের অংশ হিসেবে চীন স্বর্ণের মজুত বাড়াচ্ছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন।

    চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণের মজুত কত?

    ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের শেষে চীনের ঘোষিত সরকারি স্বর্ণের মজুত ছিল প্রায় ২ হাজার ৪১০ টন, যা দেশটির মোট সরকারি রিজার্ভের প্রায় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ।

    Frequently Asked Questions

    চীন কেন স্বর্ণের মজুত বাড়াচ্ছে?

    বৈদেশিক রিজার্ভে সম্পদের বৈচিত্র্য বাড়ানো, ডলারভিত্তিক সম্পদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো এবং আর্থিক ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলা করার কৌশলের অংশ হিসেবে চীন স্বর্ণের মজুত বাড়াচ্ছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন।

    চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণের মজুত কত?

    ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের শেষে চীনের ঘোষিত সরকারি স্বর্ণের মজুত ছিল প্রায় ২ হাজার ৪১০ টন, যা দেশটির মোট সরকারি রিজার্ভের প্রায় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ।

    জগৎবার্তা

    জগৎবার্তা

    JagatBarta: আমাদের পৃথিবী যতটা সুন্দর ঠিক ততটাই রহস্যময়। রহস্যময় পৃথিবীতে অনেক কিছু আছে যেগুলো সম্পর্কে এখনো পুরোপুরি তথ্য পাননি বিজ্ঞানীরা। এইরকমি রহস্যময় গল্পকাহিনী নিয়ে সাজানো জগৎবার্তা চ্যানেলটি।

    33 টি আর্টিকেল প্রকাশিত

    View all posts by author
    Comments

    You must be logged in to post a comment.