প্রযুক্তি

এআই বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ, মিশ্র ধারায় এশিয়ার শেয়ারবাজার

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের আয় ও এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বেগে এশিয়ার শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। কোথাও দরপতন, কোথাও সূচকের উত্থান হয়েছে।

প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিপুল বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বেগের প্রভাব পড়েছে এশিয়ার পুঁজিবাজারে। গত সপ্তাহের দরপতন কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চললেও সোমবার (২ নভেম্বর) অঞ্চলটির বিভিন্ন শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) জানায়, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল ব্যবসায়িক পূর্বাভাস এবং এআই অবকাঠামোয় বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ও ইরান পরিস্থিতির দিকেও নজর রাখছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ

অ্যামাজন, অ্যালফাবেট, মাইক্রোসফট ও মেটার মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ডেটা সেন্টার এবং চিপ খাতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রতিষ্ঠানগুলো চলতি বছর মূলধনী বিনিয়োগে ৭০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করতে পারে, যার বড় অংশই যাবে এআই অবকাঠামো উন্নয়নে।

তবে বিপুল বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত আয় ও মুনাফা কতটা আসবে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এআই প্রযুক্তির চাহিদা বাড়লেও সেই চাহিদা থেকে প্রতিষ্ঠানগুলো কত দ্রুত আর্থিক সুফল পাবে, সেটিই এখন বাজারের অন্যতম আলোচ্য বিষয়।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনের বরাতে বাসস জানিয়েছে, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকের অন্তর্ভুক্ত সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোর মধ্যে চলতি মৌসুমে প্রায় ৯০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান মুনাফার পূর্বাভাস ছাড়িয়েছে। তবে বিক্রির আয়ের ক্ষেত্রে প্রত্যাশা পূরণ করেছে প্রায় ৭০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান।

অন্যদিকে, আগের তিন মাসে সব প্রতিষ্ঠানই মুনাফার পূর্বাভাস ছাড়িয়েছিল এবং ৮০ শতাংশের বেশি প্রতিষ্ঠান বিক্রির আয়ের প্রত্যাশাও পূরণ করেছিল। এ পার্থক্য বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানে থাকার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি শেয়ারে ভিন্ন চিত্র

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি শেয়ারবাজারে বড় দরপতনের প্রভাব এশিয়ার বাজারেও পড়েছে। বিশেষ করে চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারে লেনদেনের সময় ভিন্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।

জাপানের চিপ নির্মাতা কিওক্সিয়ার শেয়ারের দাম ১৫ শতাংশের বেশি কমেছে। প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল ব্যবসায়িক পূর্বাভাস দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারে বিক্রির চাপ তৈরি হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাংয়ের শেয়ারের দাম ১ শতাংশের বেশি কমলেও প্রতিদ্বন্দ্বী এসকে হাইনিক্সের শেয়ার ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। অন্যদিকে, তাইওয়ানের চিপ নির্মাতা টিএসএমসির শেয়ারের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়েছে।

প্রযুক্তি খাতের এই ওঠানামা সামগ্রিক পুঁজিবাজারেও প্রভাব ফেলেছে। সোমবার টোকিও, সিডনি, সিঙ্গাপুর ও তাইপের শেয়ারবাজারে দরপতন দেখা গেলেও সিউল, হংকং ও সাংহাইয়ের বাজারে সূচক বেড়েছে।

তেলের দাম ও যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনেও নজর বিনিয়োগকারীদের

প্রযুক্তি খাতের অনিশ্চয়তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিও বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে। ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরু না করে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগ্রহী—এমন একটি প্রতিবেদনের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি কমেছে বলে বাসস জানিয়েছে।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য কূটনৈতিক যোগাযোগের বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার অগ্রগতি ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়েও সতর্ক বিনিয়োগকারীরা। নির্বাচনের ফলাফল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিনির্ধারণের ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে বাজারে আলোচনা চলছে।

চলতি সপ্তাহে অ্যাপল, অ্যাডভান্সড মাইক্রো ডিভাইসেস (এএমডি) ও পালান্টিরের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের কথা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের আয় ও ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রযুক্তি খাতের শেয়ারবাজারে নতুন প্রভাব ফেলতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং তার বিপরীতে প্রত্যাশিত মুনাফা নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা এখন বৈশ্বিক প্রযুক্তি শেয়ারবাজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আগামী দিনগুলোতে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক ফলাফল ও বিনিয়োগ পরিকল্পনার ওপর বাজারের দৃষ্টি থাকবে।

মন্তব্য

মন্তব্য প্রকাশ করার জন্য সাইন ইন করুন